ছয় মঞ্জিল প্রসঙ্গ : আলমে আজসাদ বা দুনিয়ার জগত (২য় পর্ব)

শিশুকালে মা-বাবার যত্ন

নবজাতক শিশু এই পৃথিবীতে আগমন করে একেবারে দুর্বল অসহায় অবস্থায়। কারো পরিচয় সে জানে না। সে কিছুই বুঝে না। কিছু বলতে পারে না। তার কোনো প্রয়োজনের কথা সে কাউকে জানাতেও পারে না। অথচ সে এই অবস্থায় সম্পূর্ণ পরমুখাপেক্ষী। আল্লাহ তাআলা অশেষ মেহেরবানিগুণে মানবশিশুর যাবতীয় প্রয়োজন মিটিয়ে দেন। শিশুসন্তানের খাবারের চাহিদা পূরণ করেন। তিনি মায়ের বুকে সন্তানের উপযোগিতা ও চাহিদা অনুসারে দুধ সরবরাহ করেন। মায়ের দুধ পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত। আল্লাহর দেওয়া শ্রেষ্ঠতম নেয়ামত স্নেহময়ী মা জননী পরম আদর সোহাগ ও যত্ন-সহকারে সন্তানকে দুধ পান করিয়ে থাকেন; যে-দুধের প্রত্যেক ফোঁটার বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সওয়াব দান করবেন।

মমতাময়ী মা সন্তানকে স্নেহ-মমতায় কোলে নেন এবং সন্তানের মুখে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে দুধ দেন। আর আল্লাহর দরবারে বরকতের দুআ করেন। আল্লাহ পাকের অশেষ মেহেরবানীতে মা-বাবার অন্তরে সন্তানের প্রতি অগাধ মুহাব্বাত ও ভালোবাসা সৃষ্টি হয়; যার ফলে মা-বাবা ভূমিষ্ঠ সন্তানের যাবতীয় প্রয়োজন ও খেদমত খুশিমনে আঞ্জাম দিয়ে থাকেন। যদিও সন্তান কাউকে চেনে না, কাউকে কিছু বলে না। অনেক শিশু-সন্তান রাতে কান্নাকাটি করে, ফলে মা ঘুমাতে পারেন না। সন্তানকে কোলে নিয়ে রাতজাগরণ করেন। ওই সমস্ত মায়েদের জন্য আল্লাহপাক ২০ জন গোলাম আযাদ করার সওয়াব দান করবেন।

 

সন্তানের দুধপানের সময়

স্বাভাবিকভাবে সন্তানের দুধপানের বয়স দুই বছর। তবে বাচ্চার দুর্বলতা-বিবেচনায় ২ বছর ৬ মাস পর্যন্ত মা দুধ পান করাতে পারবেন বলে মত পোষণ করেছেন ইমামে আযম হযরত আবু হানীফা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি।

পরহেযগার মায়েদের দুধ খুবই বরকতপূর্ণ। অপ্রয়োজনে প্যাকেটজাত দুধ পান না করানো উত্তম। ফিডার খাওয়ানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় চুষনি বাচ্চার মুখে না রাখা। কেননা, এতে রোগব্যাধি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কোনোভাবেই মিল্ক ব্যাংকের দুধ বাচ্চাদের খাওয়ানো যাবে না।

পিতা-মাতার তেলাওয়াতে কুরআন, যিকির-আযকার ইত্যাদি আমলের সময় সন্তান কাছে থাকলে এবং সে তা শুনলে ও দেখলে বড় হবার পর আল্লাহর মেহেরবানীতে তার অন্তরে নেক আমল অর্জন ও নেককারদের যিন্দেগী হাসিল করা সহজ হবে।

কোনো খারাপ আচরণ বাচ্চাদের নজরে পড়তে না দেওয়া। শিশুর নাপাক বিছানা ও কাপড় তৎক্ষণাৎ ধুয়ে পরিষ্কার ও পাক-পবিত্র করে রাখা। কারণ, না ধুইলে শয়তান কাছে আসার সুযোগ পেয়ে যায়। ন্যাপি বা ন্যাপকিনও শিশুর পরনে বেশি সময় না রাখা। কেননা, বেশি সময় রাখলে সন্তান বড় হলে দাঁড়িয়ে পেশাব করায় অভ্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রোগ-ব্যাধি হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। ইমাম গাযালী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, মা-বাবা সন্তানের প্রথম শিক্ষক। কোমলমতি শিশু পিতা-মাতাসহ জগদ্বাসীর জন্য আল্লাহ পাকের দেওয়া আমানত। এই আমানতের যথাযথ যত্ন নিলে তারা মূল্যবান রত্নে পরিণত হবে। তাদের অন্তরকে আল্লাহ পাক এমন উর্বর ও কোমল করে সৃষ্টি করেছেন যে, তারা যে-কোনো ধরনের নকশা সহজে আয়ত্ত করতে পারে।

শিশু অবস্থায় তাদের অন্তরে তাওহীদ ও সততার বীজ বপন করতে পারলে বড় হয়ে তারা সোনার মানুষ হিসাবে গড়ে উঠবে। সংসার হবে সোনার সংসার, সমাজ হবে সোনার সমাজ। এতে করে মা-বাবা-উস্তাদ-সহ তাঁর লালন-পালনে সংশ্লিষ্ট সকল অভিভাবক সওয়াবের অংশীদার হবেন।

সত্য ও সুন্দরের প্রহরায় ৪৮ বছর

প্রতিষ্ঠাতা : শায়খ আল্লামা লুৎফুর রহমান বর্ণভী রহ.
নিবন্ধন নম্বর : চ-৪৭৩/০৫

সত্য ও সুন্দরের প্রহরায় ৪৮ বছর

প্রতিষ্ঠাতা : শায়খ আল্লামা লুৎফুর রহমান বর্ণভী রহ.
নিবন্ধন নম্বর : চ-৪৭৩/০৫

কপিরাইট © ২০২৪ | মাসিক হেফাজতে ইসলাম, আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের মুখপত্র। Developed By Shabaka IT