ফেব্রুয়ারি ২০২২

বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে উলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ শ্রেণির অংশগ্রহণ, অবদান ও সর্বাত্মক সমর্থনকে একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী যেভাবে অস্বীকার করতে চায়, তেমনি বায়ান্নের ভাষা-আন্দোলনেও যে উলামায়ে কেরামের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও অবদান ছিল, সে ইতিহাসকেও তাঁরা পাদপ্রদীপের আলোয় আসতে দেয় না। বরং ধর্মপ্রাণ শ্রেণিকে উল্টো তারা ভাষা ও দেশমাতৃকার বিরুদ্ধশক্তি হিসেবে উপস্থাপন করার নিমিত্তে নানা মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আসছে। এবং এ অপচেষ্টায় তারা অনেকখানি সফলও বলা যায়।

উলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে এই প্রোপাগান্ডাকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তারা পেয়েছে মূলত ময়দান ফাঁকা পেয়ে। দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশের মূলধারার গণমাধ্যম, সাহিত্য, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও অ্যাকাডেমিক জ্ঞান-গবেষণায় উলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ শ্রেণি অনুপস্থিত। ফলে, এই অঙ্গনগুলোতে ইসলাম-বিদ্বেষী, ইসলামে অনাগ্রহী ও সেকুলার শ্রেণির একচেটিয়া প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। এবং এ প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তারা উলামায়ে কেরামকে অকর্মণ্য, ক্ষেত্রবিশেষে দেশদ্রোহী হিসাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে আসছে।

অথচ এ দেশের গণমানুষের সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ উলামায়ে কেরামের। জনগণের দ্বীন-ধর্মের সংরক্ষণে যেমন তাঁরা সচেষ্ট, তেমনি আর্ত-সামাজিক কাজেও রয়েছে তাঁদের উল্লেখযোগ্য অবদান। ভোটের রাজনীতিতে পিছিয়ে থাকলেও জনমতের উপর রয়েছে বিশেষ প্রভাব। সেই বায়ান্নের ভাষা-আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রামসহ পরবর্তী সময়ের নানা সংকটে জাতীয়ভাবে জনমত গঠনে উলামায়ে কেরামের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি প্রভাবক। আজও সন্ত্রাস, বোমাবাজি, মাদক চোরাচালান, ইভটিজিং ইত্যাদি সামাজিক ও জাতীয় অবক্ষয় ও সংকটে জনসচেতনতা ও জনমত তৈরিতে উলামায়ে কেরাম মসজিদের মিম্বর, ওয়াজের মঞ্চ ইত্যাদি মাধ্যমে প্রভাবক ভ‚মিকা পালন করে আসছেন।

কিন্তু বুদ্ধিজীবিতা, জ্ঞান-গবেষণা ও গণমাধ্যম পরিসরে জাতীয়ভাবে উলামায়ে কেরামের অংশগ্রহণ না থাকায় তাঁদের এই অবদানগুলো পাদপ্রদীপের আলোয় আসছে না, আবার পরিকল্পিতভাবে আনতেও দেওয়া হচ্ছে না।

বাংলাদেশের ৫০ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে, ইতিমধ্যে হাজার হাজার মাদরাসা গড়ে উঠেছে দেশের আনাচে কানাচে, আছে অসংখ্য উচ্চতর ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও, কিন্তু দুঃখ হলো, এসব প্রতিষ্ঠানে এখনো অ্যাকাডেমিক গবেষণার চর্চাটা সেভাবে জারিই হয়নি। সাহিত্য-সংস্কৃতি ও বুদ্ধিজীবিতার চর্চায়ও নেই পরিকল্পিত কোনো উদ্যোগ।

উচ্চতর ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলবর্গ এবং ধর্মীয় অঙ্গনের নেতৃত্বকে এ বিষয়গুলো নিয়ে একটু সিরিয়াস চিন্তা-ভাবনা করা এই মুহূর্তে বোধহয় জরুরি হয়ে উঠেছে। অন্যথায়, নিজেদের হাজারও ত্যাগ ও অবদান সত্ত্বেও জাতীয়ভাবে প্রোপাগান্ডার শিকার হয়ে অপাঙ্ক্তেয় একটা শ্রেণি হিসেবে পড়ে থাকতে হবে ইতিহাসের পাতায়।

এই প্রসঙ্গে স্মরণ করতে চাই কুতবে দাওরান হযরত বর্ণভী রহমতুল্লাহি আলাইহি’র দূরদর্শিতাকে। স্বাধীনতার পরপরই তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি ও বুদ্ধিজীবিতার ময়দানে নিজেদের শক্ত উপস্থিতি জানান না দিলে আলিমসমাজকে জাতীয়ভাবে নিগ্রহের শিকার হওয়া লাগতে পারে। ফলে তিনি নিজের সক্ষমতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী উদ্যোগী হয়েছিলেন। বক্ষ্যমাণ হেফাজতে ইসলাম পত্রিকা সে উদ্যোগেরই ফসল। আল্লাহ তাআলা তাঁর সকল উদ্যোগ ও খেদমতকে ভরপুর কবুল করুন। তাঁকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন। আমীন।

ফেব্রæয়ারির ১৮ তারিখ শুক্রবার বর্ণভী সিলসিলার প্রধানতম মারকায জামেয়া লুৎফিয়া আনওয়ারুল উলুম হামিদনগর বরুণা মাদরাসার সালানা ইজলাস। কুতবে দাওরান হযরত শায়খে বর্ণভী ও ফেদায়ে ইসলাম আল্লামা খলীলুর রহমান বর্ণভী রহমতুল্লাহি আলাইহিমার স্মৃতি ও ফয়েয মণ্ডিত এ মুবারক জমায়েত মুসলিম জনসাধারণের ইসলাহ ও হিদায়াতের উপলক্ষ হিসেবে কবুল হোক। সালানা ইজলাসে সকলের উপস্থিতি ও দুআ কাম্য।

—হামমাদ রাগিব

সত্য ও সুন্দরের প্রহরায় ৪৮ বছর

প্রতিষ্ঠাতা : শায়খ আল্লামা লুৎফুর রহমান বর্ণভী রহ.
নিবন্ধন নম্বর : চ-৪৭৩/০৫

সত্য ও সুন্দরের প্রহরায় ৪৮ বছর

প্রতিষ্ঠাতা : শায়খ আল্লামা লুৎফুর রহমান বর্ণভী রহ.
নিবন্ধন নম্বর : চ-৪৭৩/০৫

কপিরাইট © ২০২৪ | মাসিক হেফাজতে ইসলাম, আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের মুখপত্র। Developed By Shabaka IT