সম্পাদকীয়, মার্চ ২০২৩ সংখ্যা

মার্চ

 

জাতীয় পাঠ্যক্রম ২০২৩-এ ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির জন্য প্রণীত ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানের ‘অনুসন্ধানী বই’ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বই-দুটিতে অনৈতিকতা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়াদি থাকায় তুমুল সমালোচনার মুখে গত ১০ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসসিটিবি) তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। এ ছাড়া আরও তিনটি বইয়ের কিছু অধ্যায় সংশোধন, প্রয়োজন হলে পুরো বই বদলে ফেলার কথা জানিয়েছে বোর্ডটি। মাসিক হেফাজতে ইসলামের ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সংখ্যায় প্রত্যাহারকৃত দুটো বই এবং পাঠ্যক্রমের সমস্যাগ্রস্ত বিষয় নিয়ে অন্যদের মতো আমরাও পর্যালোচনা করেছিলাম। সরকার এবং বোর্ড কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ যে, তাঁরা বিষয়টি আমলে নিয়েছেন।

কিন্তু এতে শঙ্কা দূরীভূত হয়নি। কেননা, সমস্যা কেবল দু-চারটি বইয়ে সীমিত নয়, বরং পুরো পাঠ্যক্রমের কাঠামোকেই মুসলিম সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ-বিরোধী ও বিদ্বেষী করে ফেলা হয়েছে। তাই আমাদের দাবি হলো, এক-দুটো বই নয়, সংশোধনী আনতে হবে পুরো পাঠ্যক্রমে। ইতিমধ্যে যাদের সংশ্লেষের কারণে পাঠ্যপুস্তক বিতর্কের জন্ম হয়েছে, পুস্তক প্রণয়ন, সংশোধন, পরিমার্জন- সব জায়গা থেকে তাদেরকে সরিয়ে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদেরকে এসবের দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে। পাশাপাশি, যেহেতু মুসলিম-বিদ্বেষ ব্যাপকভাবে ঢুকে পড়েছে এ সিলেবাসে, সুতরাং সংশোধন ও পরিমার্জনের সময় বিজ্ঞ আলেমদের একটি দলকে সংশোধনী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এবং যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে তাঁদের প্রস্তাব ও পরামর্শ আমলে নিতে হবে।

আমরা বিশ্বাস করতে চাই- পাঠ্যপুস্তক নিয়ে যে হঠকারিতা করা হয়েছে তা সরকারের বা সরকার-দলীয়দের কোনো এজেন্ডা নয়, বরং এ হঠকারিতা তাদের ভেতরে ঘাঁপটি মেরে বসে থাকা মুষ্ঠিমেয় কিছু ইসলাম-বিদ্বেষীর হীন অপপ্রয়াস মাত্র।

২.

তুরস্ক ও সিরিয়ায় স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটল। ৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে মুসলিম অধ্যুষিত দেশ দুটির সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রাকৃতিক এ বিপর্যয়টি সংঘটিত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। তুরস্কের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন- এমন মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি। আর সিরিয়ায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক এল-মোস্তফা বেনলামিল জানিয়েছেন, দেশটিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এক কোটির বেশি মানুষ। সংস্থাটির আশঙ্কা, দুই দেশে মৃত মানুষের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়াতে পারে।

প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে কেবল ‘আসমানী আযাব’ হিসেবে অনেকে ব্যাখ্যা করেন। এটা ঠিক নয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদেরকে কখনো কখনো অনেক ভারি বিপর্যয়ের মাধ্যমেও পরীক্ষায় ফেলেন। আর অপ্রিয় নাফরমান বান্দাদেরকে কখনো দুনিয়াবী শাস্তি হিসেবে বড় বিপর্যয়ের মুখোমুখি করেন। মূল কথা হলো, মুমিনদের জন্য সুখ-দুঃখ উভয়টাই আল্লাহর তরফ থেকে পরীক্ষা। ইসলামের শিক্ষা হলো- সুখে আল্লাহর শোকরগুজারি করা, আর দুঃখে নিপতিত হলে ধৈর্যধারণ করা।

তুরস্ক-সিরিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত মুসলিম জনসাধারণের জন্য আমরা দুআ করি, তাঁরা যেন কঠিনতর এ বিপদে ধৈর্যধারণ করতে পারেন। জান-মালের যে অপূরণীয় ক্ষতি তাঁদের হয়েছে, আল্লাহ তাআলা যেন এর উত্তম প্রতিদান তাঁদের দান করেন। এ বিপর্যয় থেকে আমরাও যেন শিক্ষা গ্রহণ করি। দুনিয়ার এই চাকচিক্য, আলিশান বিত্ত-বৈভব, মর্যাদা-প্রতিপত্তি- কিছুই নয়। মুহূর্তেই সব ধুলিস্যাৎ হয়ে যেতে পারে। সকাল বেলার ধনীকে সন্ধায় ফকিরবেশে আশ্রয় নেওয়া লাগতে পারে কোনো শরণার্থী শিবিরে। তাই আমাদের উচিত- আল্লাহর কাছে সর্বান্তকরণে সমর্পিত হবার চেষ্টাকে বেগবান করা।

 

-হামমাদ রাগিব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক

সত্য ও সুন্দরের প্রহরায় ৪৮ বছর

প্রতিষ্ঠাতা : শায়খ আল্লামা লুৎফুর রহমান বর্ণভী রহ.
নিবন্ধন নম্বর : চ-৪৭৩/০৫

সত্য ও সুন্দরের প্রহরায় ৪৮ বছর

প্রতিষ্ঠাতা : শায়খ আল্লামা লুৎফুর রহমান বর্ণভী রহ.
নিবন্ধন নম্বর : চ-৪৭৩/০৫

কপিরাইট © ২০২৪ | মাসিক হেফাজতে ইসলাম, আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের মুখপত্র। Developed By Shabaka IT